প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম ও অসদুপায় প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নতুন নীতিমালায় ২০ ধরনের কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। নীতিমালা অনুযায়ী, অপরাধের ধরনভেদে পরীক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ ধরনের তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চলতি বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—পরীক্ষার হলে এদিক-ওদিক তাকানো, একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা বা কথা বলে লেখা, অনুমোদনহীন কাগজপত্র সঙ্গে রাখা বা তা থেকে নকল করা, লিখোকোড পরিবর্তন এবং অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা। একইসঙ্গে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে উত্তরপত্র দেখালে তার বিরুদ্ধেও সমান শাস্তির সুপারিশ করা হবে।
এছাড়া ডেস্ক, বেঞ্চ, দেয়াল, হাত বা পোশাকে পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো লেখা থাকলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সেখান থেকে নকল করলে সংশ্লিষ্ট অংশ লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, আট ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে চলতি বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে—অন্যকে অসদুপায়ে সহায়তা করা, মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বা সঙ্গে রাখা, উত্তরপত্রে আপত্তিকর মন্তব্য লেখা, পরীক্ষা কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দূষণীয় কাগজপত্র গোপন করা, একই খাতায় ভিন্ন হাতের লেখা থাকা, প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র বাইরে পাচার করা এবং পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গালাগালি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা।
এছাড়া সাত ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি তিন বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। গুরুতর অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে—উত্তরপত্র জমা না দিয়ে পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ, রোল নম্বর পরিবর্তন বা উত্তরপত্র বিনিময়, মূল উত্তরপত্রের পাতা পরিবর্তন, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর হামলা বা হামলার চেষ্টা, অস্ত্র প্রদর্শন এবং অন্যের লিখিত উত্তরপত্র জমা দেওয়া।
শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত এবং নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যেই এ ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
