প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও এ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে বগুড়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়। তারা বাইরে যেতে পারেন না এবং কোনো ধরনের যোগাযোগের সুযোগও পান না। এমনকি পরীক্ষার আগে কয়েকদিন তাদের বিজি প্রেসে অবস্থান করতে হয় এবং পরীক্ষা শেষে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী এ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। আমাদের এতো নৈতিকতার অধপতন ঘটেছে যে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারীদের হাউজ অ্যারেস্ট করে রাখতে হয়। তাদের ফোন দেই না। ওখানে বাইরে একজন দাঁড়িয়ে থাকে ফোন দিলে, যেভাবে আমি জেলে ছিলাম, যেভাবে আমাকে ফোন দিতো, ঠিক ওইভাবে। তো দিস ইস আওয়ার প্রবলেম, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাজ করতে গিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে। বৃত্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমি বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করলাম, এখন আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন ওরা তো সিক্সে উঠে গেছে, ওদের তো বই নেই আবার বৃত্তি পরীক্ষা কেন করাচ্ছেন। যাদের বই নেই তাদের কে বলেছে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে? আমি তাদেরকেই বলি, যারা বৃত্তি পেলে ক্লাস সিক্স, সেভেন ও এইটে টাকা পাবেন।”
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধীরে ধীরে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে, তবে সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
ইন-হাউজ কোচিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে, তবে বাইরে কোচিং নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
