প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
ভারতের সংগীতাঙ্গনে মঙ্গেশকর পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। সেই পরিবারের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তবে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ছিল কৌতূহল।
পালিয়ে বিয়ে ও সম্পর্কের টানাপোড়েন
কৈশোরেই সংগীতজগতে পথচলা শুরু করেন আশা। এই সময়েই নিজের ম্যানেজার গণপতরাও ভোসলের প্রেমে পড়েন তিনি। পারিবারিক অমতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করেন। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি বড় বোন লতা।
আশা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,‘ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম, তাই দিদি (লতা) আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন কথা বলেননি। তিনি এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি।’
বিয়ের পর শুধু পরিবার নয়, শ্বশুরবাড়িতেও প্রত্যাশিত সম্মান পাননি আশা। ব্যক্তিগত জীবনে অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগও উঠে আসে। এ সময় ধীরে ধীরে সংগীতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে থাকেন তিনি।
দাম্পত্য ভাঙন ও সংগ্রাম
তিন সন্তানের জননী হওয়ার পরও স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে তুমুল বিরোধের পর স্বামীর বাড়ি ছেড়ে মায়ের কাছে ফিরে আসেন আশা। ১৯৬০ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে আশা বলেছিলেন,‘চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হাসপাতালে ছিলাম, যেখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল।’
পরবর্তীতে তাঁর জীবনে আরও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি আসে—মেয়ে বর্ষার আত্মহত্যা এবং ছেলে হেমন্তর মৃত্যু।
তবে অতীত নিয়ে কোনো ক্ষোভ পোষণ করেননি তিনি। আশা বলেছিলেন,‘সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছি। ওই বিয়ে না হলে তো আমার তিন সন্তানকে পেতাম না।’
নতুন সম্পর্ক: আরডি বর্মনের সঙ্গে অধ্যায়
সংগীতজীবনের এক পর্যায়ে প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মন-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ‘তিসরি মঞ্জিল’-এর মতো চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের সম্পর্ক গভীর হয়।
১৯৮০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। যদিও শুরুতে এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি বর্মনের পরিবার। বয়সের পার্থক্য ও আশার অতীত জীবন ছিল আপত্তির কারণ।
পরবর্তীতে তাঁদের দাম্পত্য জীবনেও দূরত্ব তৈরি হয়, তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা অটুট ছিল। জীবনের শেষ পর্যায়েও আশা তাঁর স্বামীকে স্মরণ করেছেন কাজের মাধ্যমে।
সংগীতের প্রতি অটল ভালোবাসা
দীর্ঘ আট দশকের ক্যারিয়ারে হাজার হাজার গান গেয়েছেন আশা ভোসলে। তাঁর ভাষায়,‘নিশ্বাস বন্ধ হলে মানুষ মারা যায়। গানই হলো আমার সেই নিশ্বাস।’
জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও সংগীতই ছিল তাঁর প্রধান আশ্রয়—যা তাঁকে আজও এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
