সোমবার ২০, এপ্রিল ২০২৬

সোমবার ২০, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

চা গরম: নন্দিনীর রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

চা গরম - ফিল্ম

চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘চা গরম’–এর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে এর গল্প ও চরিত্র ঘিরে। বিশেষ করে নন্দিনী চরিত্রটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, যার উত্তর মিলবে চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনিতে।

ট্রেলারে দেখা যায়, আইরিন নামের এক চিকিৎসক চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাফা কবির। তিনি চা–বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা দেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন রবিন নামের এক ব্যক্তি, যিনি চা–শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত। পরবর্তীতে গল্পে যুক্ত হয় নন্দিনী ও মিঠুসহ আরও কিছু চরিত্র, যাদের সংযোগ ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আগামী ১৩ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাবে চলচ্চিত্রটি। সাইফুল্লাহ রিয়াদের গল্প ও চিত্রনাট্যে এটি পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত।

পরিচালকের ভাষায়, চলচ্চিত্রটিতে চা–বাগানকে কেবল পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি; বরং এর ভেতরের বাস্তবতা ও মানুষের জীবনযাপন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রিসার্চ, গল্প ও চিত্রনাট্যের জন্য আমরা কুলাউড়াতে চা–বাগানে গিয়েছিলাম। আমরা তো আসলে চা–বাগান সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না। সারফেস লেভেলে শ্রমিকদের বেতন, শিক্ষা পায় না, মেডিক্যাল ফ্যাসিলিটিজ পায় না এগুলোই জানি। এগুলো ছাড়া তাদের মধ্যে একধরনের হ্যাপিনেসও আছে। এ রকম অনেক শ্রমিককে আমরা পেয়েছি যে আসলে সারা জীবন এই চা–বাগানেই থেকে যেতে চায়, কারণ এটাতেই সে খুশি। এমন শ্রমিকদের সঙ্গেও আমরা মিট করেছি, যার জীবনে কোনো দুঃখ নেই, কারণ তার কাছে কেউ টাকা পায় না। সো আমরা আসলে দুই দিকের গল্পই বলার চেষ্টা করেছি। সঙ্গে মিথ, রিচুয়াল তো আছেই।’

চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে সাফা কবির বলেন, ‘চা গরম’ মূলত প্রান্তিক মানুষের গল্প, যারা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলেছে কিন্তু যাদের কণ্ঠ খুব কমই শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘এই গল্পের মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক শ্রমিকদের বাস্তবতা এবং সংগ্রামকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যাতে দর্শক তাদের আরও কাছ থেকে বুঝতে পারে। একই সঙ্গে, এটি সমতার একটি গল্প, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। এখানে একটি খুব সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আছে—মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই গল্পে আবেগ আছে, সংগ্রাম আছে, হাস্যরস আছে এবং আছে একে অপরের জন্য লড়াই করার শক্তি। “চা গরম” এমন একটি কাজ, যা দর্শকদের ভাবাবে এবং কিছুটা নাড়িয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

নন্দিনী চরিত্র প্রসঙ্গে সারাহ জেবীন অদিতি বলেন, ‘যদি এককথায় বলি, নন্দিনী কলেজ পাস করা তরুণী যে নিজেই জানত না সে কতটা শক্তিশালী। “চা গরম” ফিল্মে তার এই জার্নিটা দেখা যাবে। গল্পটি চা–বাগানের মানুষদের, তাদের জীবনযাপন, সংগ্রামের অনেক কিছু এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। নন্দিনী চরিত্রটি অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমাকে নতুন ঢঙে ভাষার ব্যবহার ও উচ্চারণ রপ্ত করতে হয়েছে। শুটিং শেষে চা–বাগানের মানুষগুলোকে ছেড়ে আসার সময় আমি খুব ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম।’

চা–শ্রমিক চরিত্রে অভিনয় করা রেজওয়ান পারভেজ তাঁর চরিত্র রবিন সম্পর্কে বলেন, ‘চা–শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে রবিনকে এখানে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। আমি যত দূর দেখেছি বা চা–বাগানে যাঁরা কাজ করেন বা চা–শ্রমিক যাঁরা আছেন, ওনাদের এত বেশি চাহিদা নেই, অল্পতেই তারা তুষ্ট থাকে।’

মিঠু চরিত্রে অভিনয় করা পার্থ শেখ বলেন, ‘গল্পের দর্শনটা আসলে চা–গাছেই লুকিয়ে আছে। মাথা ছিঁড়ে না ফেললে কিন্তু চা–গাছ আরও অনেক বড় হয়। কিছু ফল পাওয়ার জন্য সেটাকে কখনো বড় হতে দেওয়া হয় না।’

চরকি ও অক্সফ্যামের যৌথ প্রযোজনায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংগ্রামকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

Link copied!