রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬

রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

কুবিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্টসহ নানা দাবি শিক্ষার্থীদের

মংক্যএ মার্মা,কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলকে কেন্দ্র করে মাদকাসক্তি, র‍্যাগিং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সংকটের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিটি প্রদান করা হয়, যা প্রক্টরের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে হলটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে, হলে নিয়মিতভাবে গাঁজা সেবনের ঘটনা ঘটছে, যা আইনবিরোধী এবং একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিব্রতকর।

তারা আরও উল্লেখ করেন, মাদকাসক্ত কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারামারি ও র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। এতে নতুন ও জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জুনিয়রদের মাদক গ্রহণে প্ররোচিত করার অভিযোগও রয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, অল্প কিছুদিন আগে গাঁজাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে হল থেকে বহিষ্কার করা হলেও বর্তমানে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে একই পরিস্থিতি আবারও ফিরে এসেছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা, র‍্যাগিং প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা, নিরাপত্তা বাড়াতে নজরদারি বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু এবং নিয়মিত ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা।

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাহমুদুল হাসান খান বলেন, "আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। প্রক্টর স্যার আমাকে বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা আবার অভিযান শুরু করবো। কোনো শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতায় থাকলে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার দায়িত্ব।"

প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, "আমরা একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। তাৎক্ষণিক আমরা একটি সভা করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। র‍্যাগিং ও নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রভোস্টের সাথে কথা হয়েছে।"

বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, **"কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয় ২৪ হলের ছাদ এবং কিছু নির্দিষ্ট রুম যেন হয়ে উঠেছে মাদকাসক্তদের জন্য সেইফ হাউজ। রাত্রি যত গভীর হয়, বিজয় ২৪ হলে মাদকাসক্তদের আনাগোনা ততই বৃদ্ধি পায়। শুধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরাই এখানে মাদক সেবন করেন না, বিভিন্ন হল থেকে গেস্ট এসেও এখানে মাদক সেবন করেন।

এসব বিষয়ে হল প্রশাসন খুব ভালো ভাবেই অবগত আছেন, কিন্তু তারা কোনো প্রকার ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তা আমাদের জন্য খুবই হতাশা ব্যঞ্জক। কিছুদিন আগে, ৩ জনকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল হাতেনাতে গাজা নিয়ে রুমে অবস্থান করার কারণে, তারপর কিছুদিন এটার উৎপাত কমে গিয়েছিল, কিন্তু বিগত ২ মাস ধরে তার উপদ্রব আগের ছেয়ে কয়েকগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিনীত আহ্বান থাকবে যেন সঠিকভাবে তদন্ত করে এটার একটি দীর্ঘস্থায়ী একটি সমাধান প্রদান করেন।"

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে দিন দিন মাদকাসক্তির হার উদ্বেগ জনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিরাপদ চলাফেরাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের পরিবেশ শিক্ষার অনুকূল নয় এবং এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত মাদক নিরাময় ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিয়মিত ডোপ টেস্ট চালু করা। এর মাধ্যমে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে তাদের কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এটি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং ক্যাম্পাসে একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।"

Link copied!