প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮ এএম
দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং এর সরাসরি অভিঘাত পড়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার) এই সংকট স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হলের জেনারেটর জ্বালানি তেলের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে ইতোমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইন ক্লাস পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে নিটারের মতো একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আমদানি নির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার বড় ধাক্কা লাগতে পারে বাংলাদেশের মতো দেশে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন বা শিল্প খাতেই সীমাবদ্ধ নেই, এর বিস্তার ঘটেছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। নিটারের মতো একটি বিশেষায়িত টেক্সটাইল প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেবল আলোর জন্য নয়, বরং ল্যাবরেটরি কার্যক্রম, আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য অপরিহার্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নিটারের শিক্ষার্থীরা পড়ছেন দ্বিমুখী চাপে। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে ব্যবহারিক শিক্ষা। টেক্সটাইল প্রকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন তাঁত, বুনন ও রঞ্জন প্রক্রিয়া সরাসরি হাতে-কলমে শেখার বিষয়, যা ভার্চুয়াল মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পেশাগত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের কারণে যদি একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত জেনারেটরও বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে অফলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়বে। এতে শিক্ষার্থীরা কার্যত অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকেও কার্যকর শিক্ষা না পাওয়ার হতাশা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াতে পারে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের টেক্সটাইল শিল্পেও। কারণ দক্ষ প্রকৌশলীর যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণে অসম্পূর্ণ শিক্ষা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, "শুধু নিটার নয় পুরো বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। দ্বিতীয়ত, অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ফলে আমরা বাস্তবিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারব না।"
