রবিবার ০৫, এপ্রিল ২০২৬

রবিবার ০৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

ডিসেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৩৩ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে এ আয়োজন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সমাবর্তনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক নানা ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “সমাবর্তনের সব প্রস্তুতি আমাদের সম্পূর্ণ রয়েছে। আমরা গত বছরই এ সমাবর্তন করতে চেয়েছি। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সময় না পাওয়া এটি বিলম্ব হয়েছে। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে আমরা দ্বিতীয় সমাবর্তন করব ইনশাল্লাহ। ইতিমধ্যে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়েছি। সময় পেলেই নির্ধারিত দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাশ করা লাখো শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে মূল সনদ সংগ্রহ করতেও তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই সমাবর্তনে ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে উত্তীর্ণ ৪ হাজার ৯৩২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অংশ নেন। এদের মধ্যে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য আটজনকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। ওই সময় উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ।

বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়ায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিয়মানুযায়ী সমাবর্তন ছাড়া মূল সনদপত্র উত্তোলন করা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের সাময়িক সনদপত্র দিয়ে কাজ চালাতে হয়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এই সাময়িক সনদ অনেক সময় গ্রহণযোগ্য হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান শর্তসাপেক্ষে তা গ্রহণ করলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল সনদ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা নানা জটিলতায় পড়ছেন।

অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে সাময়িক সনদ দেওয়া হলেও মূল সনদ সংগ্রহের জন্য শিক্ষার্থীদের গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে যেতে হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গ্র্যাজুয়েটদের এতে সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শামিম রহমান বলেন, তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করছেন। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেলে মূল সনদ প্রয়োজন হবে। কিন্তু সেটি সংগ্রহ করতে তাকে গাজীপুর যেতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টসাধ্য। নিয়মিত সমাবর্তন হলে নিজ কলেজ থেকেই সনদ সংগ্রহ করা সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন যুগ পার হলেও মাত্র একবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক বড় তাই আমাদের সমাবর্তন করতে হলেও সময়ের প্রয়োজন আছে। যদিও আমরা ইতিমধ্যে সমাবর্তনের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি। সেই হিসেবে এ বছরের শেষের দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরে আমরা সমাবর্তন অনুষ্ঠান করার চিন্তা করছি। ইতিমধ্যে এই সমাবর্তন আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে অনুমতির জন্য চিঠি পাঠিয়েছি, উনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্মতি দিলেই আমরা তারিখ নির্ধারণ করে কাজ শুরু করবো।”

Link copied!