প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম ও জলবসন্তের সংক্রমণ বাড়ছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর। ভাইরাসজনিত এই দুটি রোগ অত্যন্ত সংক্রামক এবং আক্রান্ত শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রোগ সেরে গেলেও দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিশুর সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বরের সময় কী খাওয়াবেন
জ্বর ও সংক্রমণের সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিশুদের পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দেওয়া জরুরি। ডাবের পানি, ঘরে তৈরি ফলের রস ও সবজি স্যুপ এ ক্ষেত্রে উপকারী। বুকের দুধপানকারী শিশুদের আরও বেশি করে মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভাইরাসজনিত সংক্রমণে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ও বেরিজাতীয় ফল শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি রুচিও ফিরে আসে।
ভিটামিন এ-এর গুরুত্ব
হামে আক্রান্ত শিশুদের চোখে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন শুষ্কতা বা ঘোলাটে ভাব। এ ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন এ–সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা পেঁপে, লালশাক, মিষ্টি আলু, ডিমের কুসুম ও কলিজা এ ক্ষেত্রে কার্যকর। চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টও দেওয়া যেতে পারে।
সহজপাচ্য খাবারের প্রয়োজন
হামের সময় অনেক শিশুর হজমক্ষমতা কমে যায়, এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে। তাই নরম ও সহজপাচ্য খাবার যেমন পাতলা খিচুড়ি, জাউভাত, সুজি, ডাল ও স্যুপ খাওয়ানো উচিত। টক দই হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়ক।
জিংক ও প্রোটিনের ভূমিকা
রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী রাখতে জিংক গুরুত্বপূর্ণ। মাংস, মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার জিংকের ভালো উৎস।
অন্যদিকে, অসুস্থতার সময় ও পরে শিশুর ওজন কমে যেতে পারে। তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো প্রয়োজন। মাছ, মাংস, ডিম, দুধের পাশাপাশি ডাল ও বিচিজাতীয় খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
জ্বরের পর পুষ্টি পুনরুদ্ধার
রোগ সেরে যাওয়ার পরও শিশুদের শরীর কিছুদিন দুর্বল থাকে। এ সময় পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা, ডাবের পানি, খেজুর, ডালিম ও মিষ্টি আলু খাওয়ানো প্রয়োজন। এতে শরীর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও জলবসন্তে আক্রান্ত শিশুর সুস্থতায় ও জটিলতা কমাতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
