প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
রমজানে ইফতার টেবিলে খেজুরের উপস্থিতি শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর পুষ্টিগুণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। মহানবী (সা.) খেজুরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, যে ঘরে খেজুর নেই, সেই ঘরের মানুষ যেন ক্ষুধার্ত। এই বক্তব্য আজকের আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাদিন রোজা রাখার পর শরীর শক্তির ঘাটতিতে ভুগে। ঠিক এই সময় খেজুর দ্রুত শক্তির জোগান দেয়। এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি—গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ—খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি ফিরিয়ে আনে। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর খাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই শরীরের ক্লান্তি কমে এবং ক্ষুধার তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে ভারী খাবার গ্রহণের আগে শরীর একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরে যায়।
সাধারণত ২ থেকে ৩টি খেজুর খাওয়া যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। এতে অতিরিক্ত ক্যালরি বা রক্তে শর্করার সমস্যা তৈরি হয় না। প্রতিটি খেজুরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ক্যালরি শক্তি থাকে, ফলে অল্প পরিমাণেই প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙার প্রচলনটি বৈজ্ঞানিকভাবেও যথার্থ।
তবে খেজুর খাওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে খেজুরের সঙ্গে চকলেট, ক্যারামেল বা বাদাম মিশিয়ে অতিরিক্ত খাওয়া হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ক্যালরি ও শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও খেজুরের গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে আজওয়া খেজুর নিয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে এর বিশেষ উপকারিতা সম্পর্কে। তবে সবকিছুর মতো এখানেও পরিমিতিবোধ গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, খেজুর ছোট একটি ফল হলেও এটি শক্তির ভাণ্ডার। নিয়মিত ও পরিমিত খেজুর খাওয়া যেমন সুন্নাহর অনুসরণ, তেমনি সুস্থ জীবনযাপনের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
