বৃহস্পতিবার ০২, এপ্রিল ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০২, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

নিরাপত্তাহীনতায় হেলমেট পরে পরীক্ষা

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর গণিত বিভাগের একটি ভবনে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী এখন হেলমেট পরে অংশ নিচ্ছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন।

ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।

নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শুরু করেছেন।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন,
“কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট ব্যবহার করছি।”

আরেক শিক্ষার্থী নয়ন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বুধবার (১ এপ্রিল) আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছে, অথচ প্রশাসন এখনো কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ক্লাস-পরীক্ষাও চালু রাখা হয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে বসে পরীক্ষা দিতে শঙ্কা থেকেই হেলমেট পরে আসছি।”

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর নেতারা প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে এবং বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান।

তিনি আরও জানান, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে এবং বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।

Link copied!