সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৪ এএম
বৃহস্পতিবার ০২, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ছাত্রীদের আবাসিক বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সীতারা বেগম হলে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
হল সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে থাকাকালে এবং কিছু শিক্ষার্থী কক্ষে বিশ্রামে থাকায় সুযোগ নিয়ে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভবনের বিভিন্ন তলায় ঘোরাফেরা করে। এ সময় খোলা কক্ষগুলোতে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোরখা ও হিজাব পরিহিত এক নারী স্বাভাবিকভাবে হলের ভেতরে চলাফেরা করছেন এবং একাধিক কক্ষে উঁকি দিচ্ছেন। ভবন ত্যাগের সময় তাকে হিজাব পরিবর্তন করতেও দেখা গেছে।
এ ঘটনায় ৪৮তম ব্যাচের টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরত্রিকা নন্দীর একটি ল্যাপটপ, ৪৬তম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তাসনিমা ফেরদৌস উপ্তির একটি মোবাইল ফোন এবং ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরফিন সুলতানা নওরীনের কক্ষ থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরত্রিকা নন্দী বলেন, “অনেক কষ্টে জমানো টাকায় কেনা আমার একমাত্র ল্যাপটপটি চুরি হয়ে গেছে। এখন ল্যাবের কাজও বন্ধ হয়ে যাবে, যা পড়াশোনায় বড় প্রভাব ফেলবে।”
তাসনিমা ফেরদৌস উপ্তি বলেন, “ঘুম থেকে উঠে ফোনটি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে বুঝতে পারি এটি চুরি হয়েছে। বিষয়টি শুধু আর্থিক ক্ষতির নয়, মানসিকভাবেও কষ্টদায়ক। এছাড়াও একই সময় আমার রুমমেটের ব্যাগ থেকেও টাকা চুরি হয়েছে।”
শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলকে তারা নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করলেও সাম্প্রতিক এই ঘটনায় সেই নিরাপত্তাবোধ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
হলের অফিস কর্মকর্তা আফিফা হিমি বলেন, “ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।”
হল প্রভোস্ট ড. দিলারা হোসেন বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেলেও এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের প্রধান ফটকে পরিচয় যাচাইয়ের কঠোরতা না থাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ সহজ হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে ভুক্তভোগীদের থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ক্ষেত্রেও সহায়তা পাওয়া যেত।
ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাসিক হলের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।