জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
বুধবার ২১, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত । ক্যাম্পাস রিপোর্ট কোলাজ
ফুটবল মাঠের একটি বিরোধ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর নাম সাকিব হোসাইন, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবু রড, স্ট্যাম্প ও হাতুড়ি নিয়ে একদল শিক্ষার্থী তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। সাকিব এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি হামলাকারীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর অপরাধ কী ছিল?
গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল) চলছিল। বলের সীমানা নিয়ে তর্ক থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ছয়জন আহত হন, কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাকিব জানান, সংঘর্ষ শুরুর সময় তিনি বিদ্রোহী হলে খাওয়া শেষ করে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। অগ্নিবীণার কাছে পৌঁছানোর আগেই প্রথম দফার হাতাহাতি থেমে যায়। কী নিয়ে বিবাদ, তাও তিনি জানতেন না। এরপর বিবিএ ফ্যাকাল্টির সামনে সহপাঠী রিদন ও তাসিনকে তিনি মারামারি থেকে দূরে থাকতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর মাঠে ৮০ থেকে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে জড়ো হতে দেখেন, যাদের অনেকের হাতে ছিল রড, পাইপ, স্ট্যাম্প ও হাতুড়ি। প্রক্টর তখন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। বড় ঝামেলার আশঙ্কায় সাকিব কলাভবনের সামনে থাকা নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সরে যেতে বলেন। পরে ফার্স্ট গেটের দিকে যাওয়ার পথে তিনি প্রক্টরের সামনেই হামলা হতে দেখেন এবং নির্মাণাধীন সায়েন্স ফ্যাকাল্টির পাশ দিয়ে পিছিয়ে যান।
সাকিবের ভাষ্য, এরপর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল অস্ত্র হাতে তাঁদের দিকে ছুটে আসে। সঙ্গীরা দৌড়ে পালালেও তিনি প্রথমে ভাবেননি তাঁর ওপর হামলা হবে। কিন্তু ‘এটাও ইংলিশের, ধর’ চিৎকার শুনে তিনি দৌড় দেন। কলাভবনের পেছনে ড্রেনের ওপর তাঁকে ফেলে মারধর করা হয়। তাঁর অভিযোগ, কপালে পরপর তিনবার আঘাত করা হলে তিনি জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরলে দেখেন শরীর রক্তে ভেজা, পিঠ থেকে পা পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন। পড়ে গিয়ে তাঁর মোবাইল ফোনও ভেঙে যায়।
এ সময় এলজিইডি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিব তাঁকে জড়িয়ে ধরে হামলাকারীদের বলছিলেন, সাকিব তো কোথাও ছিলেন না, তাঁকে কেন মারা হচ্ছে। সাকিবের অভিযোগ, তারপরও আঘাত থামেনি। অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি জানতে চান কেন তাঁকে মারা হলো। জবাবে তাঁকে বলা হয়, তাঁর হাতে রড ছিল কেন। সাকিব এর প্রতিবাদ করে বলেন, কেউ প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাবেন।
হাসপাতাল থেকে তিনি বলেন, তিনি পড়াশোনা করতে এসেছেন, মারামারি করতে নয়। তিনি অন্যায়ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এর বিচার চান।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিয়ান আলম তাসিন জানান, সাকিব ও রবিউলের ওপর হামলার সময় তাঁরা নতুন কলাভবনের সামনে ছিলেন। তাঁর ধারণা, ২০ থেকে ৩০ জনকে তিনি ভবনের পেছনের দিকে যেতে দেখেছেন। তাসিনের মতে, একটি খেলার মাঠের ঘটনায় এমন হিংস্রতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে দেখা যায়নি। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। তাঁর আশঙ্কা, বিচার না হলে ভবিষ্যতে যে কেউ শক্তি দেখিয়ে পার পেয়ে যাবে।
হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বলে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেই রায়হান তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি সাকিবকে মারেননি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ১৬ অক্টোবর সাত সদস্যের কমিটি গঠিত হয়, যাকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।