সোমবার ১৯, অক্টোবর ২০২৬

সোমবার ১৯, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

জাল সনদ চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চায় এপিইউবি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

ফাইল ফটো

দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র ও অন্যান্য একাডেমিক নথি তৈরি, বিক্রি এবং ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সংগঠনটির পরিচালক বেলাল আহমেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ শুধু আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড নয়; বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, মেধাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতার জন্যও হুমকি।

এপিইউবি জানায়, সংঘবদ্ধ জাল সনদ চক্রের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈধ ও অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর। এর ফলে প্রকৃত যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও চাকরিদাতাদের সন্দেহের মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষাগত সনদের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গোয়েন্দা সংস্থা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। জাল সনদ প্রস্তুতকারী, সরবরাহকারী, মধ্যস্থতাকারী এবং এসব নথি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া জাল সনদ কেনাবেচায় ব্যবহৃত ভুয়া ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বিজ্ঞাপন, প্রতারণামূলক যাচাইকরণ পোর্টাল এবং অনলাইন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এপিইউবি। এসব অপরাধ দমনে সাইবার অপরাধ দমনকারী দলগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্তে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা বাইরের প্রযুক্তিগত সহায়তাকারীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এপিইউবির মতে, শিক্ষাগত সনদের জালিয়াতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা, প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রহণযোগ্যতা সুরক্ষায় সহায়তা করবে।

Link copied!