রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬

রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

৯১ দেশের প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়, বিজয়ী বিএমইউ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘গোল্ডেনরুটস’

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ এএম

ছবি| ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সুন্দরবন পুনরুদ্ধারে পাটের বোনা পরিবেশবান্ধব ‘বায়ো-শিল্ড’ ব্যবহারের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ‘গোল্ডেনরুটস’। ২০২৬ সালের ওশানলাভ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডসের ‘দ্য লিভিং সি’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে প্রকল্পটি। গত ১৬ অক্টোবর ওশানলাভের লিংকডইন প্রোফাইলে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

গত ১১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরে অবস্থিত আলতাসি (AltaSea at the Port of Los Angeles)-এ অনুষ্ঠিত হয় ওশানলাভ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে তিনটি বিভাগে বিজয়ী প্রকল্পগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ‘দ্য লিভিং সি’ বিভাগে বিজয়ী হয় বিএমইউর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘গোল্ডেনরুটস’।

প্রকল্পটির পূর্ণ নাম ‘GoldenRoots: Jute-Weave Bio-Shields for Sundarbans Restoration’। এর নেতৃত্বে রয়েছেন ওশানোগ্রাফি এন্ড হাইড্রোগ্রাফি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক মো. আশিফ ইমাম খান । দলের অন্য সদস্যরা হলেন ফাহিম শাহরিয়ার রাজিন, সৈয়দা মেহেজাবিন সারা, মো. মাহবুবুর রহমান, এম এম মোহতাসিম ও মো. ফেরদৌস রানা। দলের সদস্যরা ওশানোগ্রাফি এন্ড হাইড্রোগ্রাফি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী।  শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।

ওশানলাভ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৯১টি দেশ থেকে মোট ৪৮৭টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৩০টি প্রকল্পকে ‘ওশানলাভ টপ ৩০ বুটক্যাম্পে’ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। গোল্ডেনরুটসও এই তালিকায় জায়গা করে নেয়। বুটক্যাম্পে প্রকল্পের ধারণা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা এবং বিশেষজ্ঞ কোচদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর এটি চূড়ান্ত বিচারপর্বে অগ্রসর হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়।

প্রকল্পটির মূল ধারণা হলো পাটের বোনা জীবাণুবিয়োজ্য উপকরণ দিয়ে বায়ো-শিল্ড তৈরি করে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ ধরনের কাঠামো পলি ধরে রাখতে এবং ম্যানগ্রোভের চারার প্রতিষ্ঠা ও বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সুন্দরবনের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রে পরিবেশবান্ধব পুনরুদ্ধারপদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

ওশানলাভ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডসের ‘দ্য লিভিং সি’ বিভাগে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারকেন্দ্রিক উদ্ভাবনী উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিভাগে গোল্ডেনরুটসের বিজয় সুন্দরবন পুনরুদ্ধারে পাটভিত্তিক সমাধানের ধারণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে।

পুরস্কার হিসেবে প্রতিটি বিজয়ী উদ্যোগ পাচ্ছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার প্রাথমিক তহবিল( প্রকল্প সম্পাদনার জন্য), এক বছরের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ। এসব সহায়তার মাধ্যমে বিজয়ী প্রকল্পগুলোকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এবারের প্রতিযোগিতায় অন্য দুই বিভাগেও বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছে। ‘দ্য ব্লু সার্কেল’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে গ্রোজেনিকসের ‘What If Sargassum Could Give Back?’ প্রকল্প। এতে সমস্যাজনক সারগাসাম সামুদ্রিক শৈবালকে জৈব পুনর্ব্যবহার ও কম্পোস্ট তৈরির মাধ্যমে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ‘দ্য ওয়েভমেকার্স’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে ‘GaiaOne Restoration Project’, যার লক্ষ্য নারীদের পেশাগত প্রবাল পুনরুদ্ধার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

৯১টি দেশ থেকে আসা ৪৮৭টি আবেদনের মধ্য থেকে বিজয়ী হওয়া গোল্ডেনরুটস প্রকল্প বাংলাদেশের সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের একটি স্থানীয় সমাধানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছে। পাটের মতো সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারে সম্ভাবনাময় পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে বিএমইউর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই দল।

Link copied!