প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে ভোররাতে তিন নারীসহ পাঁচজন বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার সহযোগিতায় তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আটককারী শিক্ষার্থীরা জানান, রাত তিনটার দিকে গাজীপুর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই পাঁচ ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। অটোরিকশার ভাড়া না দিয়েই তাঁরা দ্রুত নেমে যান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশ দিয়ে তাঁদের অস্বাভাবিকভাবে দৌড়ে যেতে দেখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
ভোর সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে ওই পাঁচজনকে বের হতে দেখে সন্দেহ হলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের থামান। পরিচয় এবং ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলতে থাকেন। পরে তাঁদের ব্যাগ তল্লাশি করে জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা নিজেদের তৈরি পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) কর্মী বলে পরিচয় দেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জোবায়ের ইসলাম বলেন, "তাঁদের গতিবিধি দেখে প্রধান ফটকের নিরাপত্তারক্ষীর সন্দেহ হলে তিনি আমাদের বিষয়টি নজর রাখতে বলেন। পরে দেখা যায় পাঁচজন বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র জঙ্গলের দিকে যান। ভোরে ডব্লিউআরসির সেখান থেকে বের হওয়ার সময় আমরা তাঁদের আটক করি।"
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের একজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান শুভর পূর্বপরিচয় রয়েছে। শুভ জানান, ওই ব্যক্তি তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধু এবং তিনি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে চাকরি করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান শুভ বলেন, "ও আমাকে রাতে ফোন করে জানায়, মহাখালীর একটি ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দুজন রাতে আসবে। পরে ডেইরি গেটে যাওয়ার পর দেখি তাঁদের সঙ্গে নারীও আছেন। তখন আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিই—এ দায়িত্ব আমি নিতে পারব না। পরবর্তীতে তাঁদের বলি, এত রাতে বাইরে না থেকে অন্তত ক্যাম্পাসের ভেতরে কোথাও গিয়ে বসে থাক।"
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। বহিরাগত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য পরবর্তীতে নিরাপত্তা শাখার মাধ্যমে আশুলিয়া থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, "ভোর চারটার দিকে তিন নারী ও দুই পুরুষ বহিরাগত ধরা পড়ে। সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুমে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর অধিকতর তদন্তের জন্য নিরাপত্তা শাখার মাধ্যমে পুলিশ ডেকে তাঁদের সোপর্দ করা হয়েছে।"
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। আটক পাঁচজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনেরা এলে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে।"
