সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

ডুয়েটে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেটিভ ইভেন্ট

রাকিব হাসান,ডুয়েট থেকে

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট), গাজীপুরে শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও অংশীজনদের সমন্বয়ে ‘ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেটিভ ইভেন্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ‘স্ট্রেন্থেনিং স্টার্ট-আপ, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, গবেষণা ও সম্প্রসারণ পরিচালক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। আলোচনায় শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে কার্যকর ও টেকসই সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি বিকাশে সরকার এবং ইউজিসি বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তবমুখী ও বাজার উপযোগী করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে হবে। ইউজিসি এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন শুরু হবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ইনোভেশন ফেয়ার আয়োজন এবং স্টার্ট-আপ উন্নয়নে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে অর্থায়ন, পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এ ধরনের গোলটেবিল আলোচনা সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি বিকাশে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করেই ডুয়েট শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, ইন্টার্নশিপ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলা এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পকে বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে ডুয়েটে আইসিটি ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইউজিসির নীতিগত সহায়তা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও শক্তিশালী উদ্ভাবনভিত্তিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা। তিনি শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গবেষণা ও সম্প্রসারণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আবেদীন স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ ‘ডুয়েটে গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন সুবিধাদি’ শীর্ষক উপস্থাপনা করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান। প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নেসলে বাংলাদেশ, আকিজ সিরামিকস, উর্মি গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, জেনকর সল্যুশনস, ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেড, মাসকো গ্রুপ, ডেকাথলন, র‌্যাংকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইনোভেশন আইটি লিমিটেড, জি-ইউনিটস কোম্পানি লিমিটেড এবং ইকোটেক্স লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘দ্য ফিউচার অব ইয়ুথ ইন বাংলাদেশ ইন দ্য পার্সপেকটিভ অব এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনায় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

Link copied!