সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। দুই দেশের শিক্ষা বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হয় ইনস্টিটিউটটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাইনিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ফাউন্ডেশনের অনুমোদন পাওয়ার পর একই বছরের নভেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কনফারেন্স’-এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের সিপিসি ইয়ুননান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন,  বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বক্তব্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের দিনটি আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক স্মরণীয় মাইলফলক, যা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সুদৃঢ় বন্ধুত্বের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট কেবল একটি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র নয়; এটি মূলত দুই দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারাকে যুক্ত করার একটি শক্তিশালী সেতু হিসেবে কাজ করবে।

উপাচার্য আরও বলেন, এই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য চীনা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আধুনিক উন্নয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই গুণগত মানসম্পন্ন ভাষা শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় আমাদের তরুণ প্রজন্মের একাডেমিক গতিশীলতা, আন্তর্জাতিক গবেষণা, পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এই উদ্যােগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ছাওছি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও দক্ষ শিক্ষক পাঠানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি তরুণদের চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সহযোগিতা করবে তার বিশ্ববিদ্যালয়। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট দুই দেশের তরুণদের চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন যুগে বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গঠনে আরও অবদান রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট নতুন উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের নামফলক উন্মোচন করেন।

Link copied!