প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শনিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান।
শনিবার দুপুরে লাল কার্ড হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অংশ নেন। শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন থেকেও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছিলেন। নতুন উপাচার্য আন্দোলনকে ৩০-৩৫ জনের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করায় এবং অনলাইনে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও তারা প্রত্যাখ্যান করছেন বলে জানান তিনি।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, নতুন উপাচার্যের যোগদানের প্রতিবাদেই তারা বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় তাকে পরিবর্তন করা হয়।
নতুন উপাচার্যের নিয়োগের প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মধ্যেই অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে তাঁর আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি শান্ত হলে দ্রুত ক্যাম্পাসে গিয়ে কাজ শুরু করতে চান তিনি।
চুয়েট শিক্ষক সমিতিও অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে এবং নতুন উপাচার্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
