সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

নোবিপ্রবির বাসে হামলার অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ২

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

ছবি | ক্যাম্পাস রিপোর্ট

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ‘গোমতী’ বাসের চালক ও কর্মচারীকে মারধর, বাসের গ্লাস ভাঙচুর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নোবিপ্রবির পরিবহন পুলের বাসচালক দিলীপ রবি দাস বাদী হয়ে থানায় এজাহার দেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দিলীপ রবি দাস নোয়াখালী-স-১১-০০০৯ নম্বর ‘গোমতী’ বাসটি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের আনার উদ্দেশ্যে কবিরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবহন পুলের কর্মচারী মো. আলাউদ্দিন।

সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় কবিরহাটের দিক থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির সঙ্গে আলাউদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁদের একজন হেলমেট দিয়ে আলাউদ্দিনকে আঘাত করলে প্রতিহত করার সময় তাঁর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে অভিযুক্তরা বাসে উঠে চালক দিলীপ রবি দাসকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের একজন মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে তাঁর মুখের বাঁ পাশে আঘাত করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা চালকের পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। তাঁদের হাত থেকে রক্ষা পেতে চালক ও আলাউদ্দিন বাসে উঠে দরজা বন্ধ করে দেন।

এরপর অভিযুক্তরা হাত ও হেলমেট দিয়ে বাসের দরজায় আঘাত করলে একটি গ্লাস ভেঙে যায়। এতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযুক্তরা চালক ও কর্মচারীর ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এবং রাস্তায় তাঁদের পেলে ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাসে আঘাত করার সময় অভিযুক্তদের একজনের হাতেও জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

নোবিপ্রবির ‘গোমতী’ বাসের চালক দিলীপ রবি দাস বলেন, “জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি হোন্ডার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই ব্যক্তি আমার হেলপারকে মারধর করে। পরে আমি বিষয়টি থামাতে গেলে তারা আমার গায়েও হাত দেয় এবং চাবি দিয়ে আঘাত করে। পরে তাদের হাত থেকে বাঁচতে আমরা বাসে উঠে দরজা বন্ধ করে দিই। তখন তারা হাত ও হেলমেট দিয়ে বাসের দরজায় আঘাত করলে একটি গ্লাস ভেঙে যায়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালে তারা থানায় অবহিত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।”

সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, মারধর ও জখমের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এজাহারে শুরুতে অভিযুক্ত দুজনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “বাসচালক আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ড্রাইভার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং পুলিশও দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করেছে।”

ঘটনার পর নোবিপ্রবির পরিবহনকর্মীদের নিরাপত্তা এবং সরকারি বাস চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Link copied!