মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ছবি | ক্যাম্পাস রিপোর্ট
চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, দায়িত্বে গাফিলতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সভা চলাকালে মন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক দিনের মধ্যে তাঁকে মৌলভীবাজার থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র বদলির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ডা. মামুনুর রহমান মৌলভীবাজারে যোগদানের পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম, রোগী হয়রানি এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মহল মন্ত্রীর কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের স্বাধীন সত্যতাও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি পর্যালোচনা করেন বলে সূত্রের দাবি। এরপর তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজারে নতুন সিভিল সার্জন পদায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সিভিল সার্জনকে প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সরকারি দায়িত্বে গাফিলতি ও চিকিৎসাসেবায় অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে প্রত্যাহারের চূড়ান্ত আদেশ এবং এর সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।