প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের গণরুমে এক শিক্ষার্থীকে সাপে কামড় দেওয়ার পর একটি বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে সাপটি দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোয়ানের চার সদস্যের একটি দল প্রায় ৩০ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর সাপটি উদ্ধার করে।
আক্রান্ত শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলাম ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, সাপটি দেখতে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটি উদ্ধার করা হয়।
সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার, রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সামিত বিন রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ, শুভ ও বাঁধন সাপটি উদ্ধার করেন। তাঁরা বলেন, সাপটি ‘পাতি কালাচ’ বা ‘পাতি কেউটে’। এর ইংরেজি নাম Common Krait। এটি নিউরোটক্সিন বিষধর সাপ।
সাপটি উদ্ধারের বিষয়ে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ বলেন, ‘কমন ক্রেইট মারাত্মক বিষধর সাপ। এটি সাধারণত রাতে চলাচল করে। কামড় দেওয়ার পর অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। ঘুমন্ত অবস্থায় এ সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটতে পারে।’
সাপের কামড় থেকে নিরাপদ থাকার বিষয়ে সাজ্জাদ শেখ বলেন, 'সচেতনতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হলের আশপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রাতে জানালা বন্ধ করে রাখা এবং রুমের আশপাশে কোনো গর্ত থাকলে তা বন্ধ করে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে রাতে চলাচলের সময় সঙ্গে লাইট রাখার পরামর্শ দেব।'
তিনি বলেন, 'রুমের আশপাশে অন্তত এক থেকে দেড় হাত জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখতে হবে, যাতে সাপ সহজে প্রবেশ করতে না পারে। আমাদের কাজ মানুষের জীবন বাঁচানো, যাতে কেউ সাপের দ্বারা আক্রান্ত না হন। অন্যদিকে সাপও প্রকৃতির সম্পদ। তাই সাপটিকেও বাঁচানোর চেষ্টা করি।'
সাপটি অবমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, 'সাপটি উদ্ধারের পর বন অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে লোকালয় থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হবে। সাপ আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে।'
অপর উদ্ধাকারী সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সামিত বিন রহমান বলেন, 'চলতি মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোয়ান রাবি শাখা ১০ থেকে ১৫টি সাপ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই নির্বিষ সাপ। তবে বিষধর সাপের মধ্যে কালাচ ও গোখরাও উদ্ধার করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'বিষধর সাপের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কালাচ ও খয়েগোখরার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এসব সাপ সাধারণত রাতের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে এবং এ সময়ই বের হয়। তাই রাতে শিক্ষার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।'
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। ইতোমধ্যে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হলের প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারাও হাসপাতালে যাচ্ছেন। আমি সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মনিটর করছি।
এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, এর আগেও হলে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে, সাপ প্রতিরোধে সার্কেল দেওয়া হয়েছে এবং সামনের দুই পাশে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। এরপরও পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সাপটি কীভাবে রুমে ঢুকেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে সোয়ানের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, কালাচ সাপের অনেক সময়ই বিছানায় উঠে আসার প্রবণতা রয়েছে। তাই এদের থেকে দূরে থাকতে ঘর পরিষ্কার এবং রাতে মশারি তোশকের মধ্যে ভালোভাবে গুজে ঘুমাতে হবে।
