প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার এর উদ্যোগে এবং কেন্দ্রটির পরিচালক ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘তরুণদের জন্য সাইবার সচেতনতা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“স্মার্ট, নিরাপদ ও সুরক্ষিত: স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক সাইবার নিরাপত্তা” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তোলা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান প্রদান।
কর্মসূচিতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাহিম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী ও ২০ জনের বেশি শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন, আলোচনা এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ ডিজিটাল জীবনযাপন ও সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির (FSIT) ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফখরে হোসেন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমরান মাহমুদ এবং সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের পরিচালক ড. রুবাইয়াত ইসলাম।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘Workshop on Social Media Crime & Digital Crime’ শীর্ষক সেশন। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, সাইবার অপরাধ তদন্তকারী ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এছাড়া ‘Fintech Scam’ শীর্ষক সেশনে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও HSBC Bangladesh-এর সাইবার সিকিউরিটি প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম রাজীব অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি এবং নিরাপদ আর্থিক আচরণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন।
‘Online Bullying, Harassment and Fake News’ শীর্ষক সেশনে উদ্যোক্তা ও উন্নয়নকর্মী এফ. এম. সারওয়ার হোসেন অনলাইন বুলিং, হয়রানি, ভুয়া তথ্যের প্রভাব এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সাইবার সচেতনতা বিষয়ক সেশনগুলোর পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য ক্যাম্পাস ট্যুর, উন্মুক্ত আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বেরও আয়োজন করা হয়। এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান।
এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত একটি বিশেষ তথ্যপত্র (লিফলেট) শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এতে সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, ধারণা এবং পরিভাষা সহজভাবে তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, অনলাইন প্রতারণা শনাক্তকরণ, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সচেতন, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন ইতিবাচক অবদান রাখবে।
