মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
শুক্রবার ২৫, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পাওয়া রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে তাঁকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়ে। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাফিদ রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিনোদপুর বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় সেটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে রাফিদ নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে সড়কের ডিভাইডারে মাথায় আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেয়। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারে, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
এরপর ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাফিদের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁর শারীরিক অবস্থা কোমায় যাওয়ার আগের পর্যায়ে রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। রাজশাহীতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
রাফিদের চিকিৎসার বিষয়ে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “রাফিদের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। রাতে আইসিইউতে ভর্তি করানো থেকে শুরু করে আজ সকালে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার রাজশাহীতে সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাফিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন তার পাশে আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক, এটাই প্রত্যাশা। রাফিদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।”
দুর্ঘটনার পর রাফিদকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিরামিক অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিমেল ইসলাম। তিনি বলেন, “বিনোদপুর বাজারে হঠাৎ একটি শব্দ শুনে আমরা সচেতন হই। পরে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পারি। এরপর আমরা ভাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। বর্তমানে তাঁর অবস্থা অবনতির দিকে রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”
এদিকে রাফিদের চিকিৎসার জন্য রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে চিকিৎসা তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। গতকাল থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তী চিকিৎসায় আরও ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাফিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার।