রবিবার ২৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার ২৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির ২৪তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

“উন্নত প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ” প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি ২৪তম আন্তর্জাতিক দ্বিবার্ষিক সম্মেলন এবং বার্ষিক সাধারণ সভা আজ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি প্রধান অতিথি এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. হামিদা খানম স্বাগত বক্তব্য দেন । সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ছগীর আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বিভাগের শিক্ষার্থী কারিশমা আখতার কথা এবং নোশিন তাশফিয়া মুনা অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এই কাজের সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তরুণ গবেষকদেরও এই কাজে যুক্ত হতে হবে। গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর কৌশল তৈরি করতে হবে। আমাদের নদ-নদী, জলাভূমি, বনভূমি, পাহাড়, উপকূলীয় অঞ্চল এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে জীবনের এক অসাধারণ বৈচিত্র্য বিদ্যমান। ব্যাপক হারে আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। রিমোট সেন্সিং, জিআইএস, আণবিক কৌশল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সঠিক পরিবেশগত জ্ঞানের সমন্বয় প্রয়োজন।
 
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়- এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে দেশের প্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। খাদ্য উৎপাদনে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ গবেষকদের নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের সম্পদ রক্ষা করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি গত ৯মে এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ে অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, স্বাগতা দাস গুপ্তা দিপা ও নিলয় পাল এবং ইমাম মেহেদী হাসান ও রফিকুল ইসলাম।

Link copied!