প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে অনেক প্রার্থী বাদ পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন জেলার শত শত প্রার্থী এতে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর নিয়োগপত্র বিতরণ ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। তবে ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক বা বিরূপ তথ্য থাকলে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে।
ইউটিএলের নেতারা বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা মেধার ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরপর এনএসআই, এসবি ও ডিএসবি ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনগত ভিত্তি প্রকাশ করতে হবে।
তাঁদের ভাষ্য, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া কোনোভাবেই রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই, হয়রানি বা বাছাইয়ের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা অনুচিত।
বিবৃতিতে ইউটিএল নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কারও রাজনৈতিক মতামত বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে চাকরিবঞ্চিত করার অভিযোগ উদ্বেগজনক।
তাঁদের দাবি, গত ১৭ বছর গোপন প্রতিবেদনের নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে নাগরিকদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া বন্ধ করে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও কারণ জানাতে হবে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি তাঁকে যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার ও আপিলের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইউটিএল। সংগঠনটির নেতারা বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
ইউটিএল বাদ পড়া চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে।
তাদের মতে, ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও মতাদর্শিক বাছাইয়ের অভিযোগ একটি ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে ইউটিএলের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পুলিশ, এনএসআই বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভেরিফিকেশন ছাড়াও কাগজপত্রে অসামঞ্জস্য ও শূন্যপদসংক্রান্ত বিষয় নিয়োগ আটকে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
