রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
রবিবার ২৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ দীর্ঘদিন ধরে র্যাগিং ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা'ও করেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।তবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে প্রশাসন।
জানা যায়, মারুফ সিএসই বিভাগের ২০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।সহপাঠীদের সাথে তার প্রতি হওয়া র্যাগিং এর কথা বললে তাকে আরো বেশি র্যাগিং-এর স্বীকার ও হেনস্তা হতে হয়েছিলো।তবে সম্প্রতি এটা মারাত্মক আকার ধারণ করে।কিছুদিন আগে ১৯ তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ইন্ট্রো দেওয়া নিয়ে তার বিরোধ তৈরি হয়।কথিত সিনিয়র-জুনিয়র জোরপূর্বক পরিচয় আদায় সংস্কৃতি অনুসরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।এসব ভিত্তিহীন নিয়ম মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অনেকবার ডেকে গালিগালাজ এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করে যার একাধিক অডিও,ভিডিও ভুক্তভোগীর কাছে রয়েছে এবং তা প্রতিবেদককে সরবরাহ করেন।তাকে অনেক্ষণ সকলের সামনে দাঁড় করিয়ে ইন্ট্রো দিতে বাধ্য রাখা হয় এবং ভুল হয়ে আমার প্রথম থেকে ইন্ট্রো দেওয়ানো হয়। এছাড়া আরো অভিযোগ রয়েছে সিনিয়ররা তাকে ডেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান তাকে মারতে উদ্যত হন।এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কান্না করে দিলে তারা আরও খেপে যায় এবং সে মাফ চেয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও আসিফুর রহমান ও মাহির তাকে ছাড়ে না।একপর্যায়ে আসিফুর রহমান তাকে বিভাগের একাডেমিক গ্রুপসহ সব গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এছড়া কাউকে তার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে এবং নোট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী এমনকি ক্লাসের রুটিনটাও না দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।এতে তিনি একদিকে যেমন একাডেমিকভাবে সমস্যায় পড়েন, অন্যদিকে সামাজিকভাবেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তিনি ছাত্র উপদেষ্টা ও দুইজন শিক্ষকে দায়িত্ব দেন বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে প্রতিবেদনটি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক অধ্যাপক আর্ণিশা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারুফের সঙ্গে র্যাগিংয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান। তবে বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রক্টর অফিসে না আসায় ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশংকা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।