প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদাবনতি হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষককে পুনরায় আগের পদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ছাত্রীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের ওপর আরোপিত ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।
পদাবনতি থেকে আগের পদে ফিরিয়ে দেওয়া দুই শিক্ষক হলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারকে পুনরায় সহযোগী অধ্যাপক পদে বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে সতর্ক করা হয়েছে। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে পুনরায় সহকারী অধ্যাপক পদে বহাল করা হলেও আগামী দুই বছর তার কোনো পদোন্নতি হবে না, আগের এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
অপরদিকে কাজী এম আনিছুল ইসলাম এখন থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। তবে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারকে এবং যৌন নিপীড়ন ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে পদাবনতি দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২০ সালে ইংরেজি বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদর আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং তিন শিক্ষার্থীকে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নম্বর দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তের স্বার্থে ১ অক্টোবর তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের পদাবনতি দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের অভিযোগ পুনর্বিবেচনার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির বিষয়টি বিবেচনা করে এবার তাদের আগের পদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মার্চে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত চলাকালে কাজী এম আনিছুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, ‘ আলী রেজওয়ান তালুকদার ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে। তবে আলী রেজওয়ানকে সতর্ক করা হয়েছে এবং জসিম উদ্দিনকে আগামী দুই বছরের মধ্যে পদোন্নতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এছাড়া কাজী আনিছুল ইসলামের ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটির ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে ছয় মাসের বেশি সময় বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা যায় না। কিন্তু কাজী আনিছুল ইসলামকে প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখা হয়েছে। আগের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ছিল, তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকবেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন আমরা আগেই পেয়েছি। এ কারণে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
