প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তাঁকে চার বছরের জন্য চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন নিয়োগের ফলে প্রায় দুই মাস আগে দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের উপাচার্য পদে মেয়াদ শেষ হলো। গত ২৭ জুলাই তিনি চার বছরের জন্য চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
নতুন নিয়োগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, তিনি বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সেখানেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর জানতে পারেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি জানি না কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো। আমি ক্যাম্পাসে ফিরে যাব।”
চুয়েটে গত দুই বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় উপাচার্য নিয়োগ। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। প্রায় এক বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। সর্বশেষ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব নিলেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম এর আগে কুয়েটের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত ২৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। একই সময়ে কুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ কামালকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন এবং অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উভয় কর্মকর্তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
এদিকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবরে চুয়েটের কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে তারা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
