প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
দেশের উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে অংশ নিয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর।
রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’ প্রতিপাদ্যে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশের সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন উদ্যোগ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলায় ডুয়েটের প্রতিনিধিদল টেক্সটাইল প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট দুটি এবং জ্বালানি প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট একটি প্রকল্প প্রদর্শন করছে। প্রকল্পগুলো হলো—কাঁঠাল ও তুলার সমন্বয়ে টেকসই সুতা তৈরি, লবণ-ক্ষারমুক্ত কাপড় রং করার প্রযুক্তি এবং জৈব বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ব্রিকেট মেশিন।
টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজালাল খান্দকারের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষক ইয়াসিন আরাফাতের গবেষণায় কাঁঠালের আঁশকে তুলার আংশিক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে সুতা তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। গবেষণায় কাঁঠালের আঁশ ও তুলার বিভিন্ন অনুপাতের মিশ্রণ পরীক্ষা করে ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ কাঁঠালের আঁশ ও ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ তুলার মিশ্রণকে গুণগত মান ও উৎপাদন খরচের দিক থেকে ভারসাম্যপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এ পদ্ধতিতে সুতা উৎপাদন খরচ প্রায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ কমানো সম্ভব। এতে তুলা চাষের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী কাঁচামালের নতুন উৎস তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হান্নানের তত্ত্বাবধানে নুসরাত জাহান খানের প্রকল্পে কাপড় রং করার প্রচলিত পদ্ধতিতে ব্যবহৃত লবণ ও ক্ষারের বিকল্প হিসেবে রাসায়নিকমুক্ত রং করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে শুধু গরম পানি ব্যবহার করে তুলা রং করা সম্ভব। এতে রাসায়নিকের খরচ কমার পাশাপাশি পানির অপচয় ও দূষিত বর্জ্যপানি কমানোর সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শেখ রেজওয়ানুল হকের প্রকল্পে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্রিকেট মেশিন’ তৈরি করা হয়েছে। মেশিনটির মাধ্যমে দাহ্য বর্জ্যকে তিনটি ধাপে জ্বালানি উপযোগী কয়লায় রূপান্তর করা যায়। এর ফলে একদিকে শহরের বায়ুদূষণ ও বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে জ্বালানি সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। তিনি ডুয়েটের তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় সমস্যার সমাধানে পরিবেশবান্ধব ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, একাডেমিক গবেষণাকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণের পথে এগিয়ে নিতে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতেও এ ধরনের আয়োজন সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিকে একটি সমন্বিত জাতীয় প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরা এবং সরকারি-বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা।
