প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
রাবির পরীক্ষার খাতায় থাকবে না নাম-রোল, চালু হচ্ছে ‘কোডিং পদ্ধতি’
মো. রেজওয়ান, রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরীক্ষার খাতায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বরবিহীন ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন এই ব্যবস্থায় খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকের কাছে পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকেই এ পদ্ধতি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, ফলাফলে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং যেকোনো ধরনের পক্ষপাত দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে আগামীকাল মঙ্গলবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোডিং পদ্ধতি চালু ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নতুন ব্যবস্থার কার্যপ্রণালি বর্ণনা করে উপ-উপাচার্য বলেন, পরীক্ষার খাতার মলাটে দুটি পৃথক অংশ থাকবে। একটি অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে। অন্য অংশে থাকবে একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর।
পরীক্ষকের কাছে খাতা হস্তান্তরের আগেই নাম-রোলসহ ব্যক্তিগত তথ্যের অংশটি আলাদা করে রাখা হবে। পরীক্ষকের কাছে পৌঁছাবে শুধু কোড নম্বরযুক্ত অংশ। ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীর পরিচয় জানতে পারবেন না।
তিনি আরও জানান, মূল্যায়ন শেষে গোপন কোডের সঙ্গে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্যের অংশ মিলিয়ে নম্বরপত্র প্রস্তুত করা হবে। এরপর সেই ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। এ পদ্ধতি চালু হলে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে সম্ভাব্য পক্ষপাতের সুযোগ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের মেধার আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
