মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
মঙ্গলবার ১৫, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ছবি
একটু একটু করে তৈরি হওয়া ছোট গর্তগুলোই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌলভীবাজারের গ্রামীণ জনপদের জন্য। সদর উপজেলার শাহবন্দর-মাসকান্দী সড়ক থেকে শুরু করে জেলার প্রায় সব উপজেলার আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের একই চিত্র। কোথাও পিচ উঠে বেরিয়ে এসেছে ইট-সুরকি, কোথাও বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে অদৃশ্য গর্ত।
এলজিইডির তথ্য বলছে, জেলার ৫ হাজার ১১৪ কিলোমিটার সড়কের প্রায় বেহাল দশা । অথচ বরাদ্দের অভাবে সংস্কার হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটি। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন।
মাঠের কণ্ঠ গরীব মানুষ কী করবে:
শাহবন্দর-মাসকান্দী রোডের সিএনজি চালক জলিল আক্ষেপ করে বলেন, ভাই কী বলবে এই রাস্তার বড় বড় গর্তে আমরা প্রতিদিন গাড়ি চালাতে এত কষ্ট হয়। কি করবে গরীব মানুষ, গাড়ি চালিয়ে ঘরে খাবার নিয়ে যেতে হয়।
কনকপুর দামিয়ার বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে সদরের প্রায় রাস্তার কোনো সংস্কার নাই। দিনের পর দিন মানুষ কষ্ট করতেছে। প্রতিদিন শহরমুখী মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল, হাসান ও মেরাজ আহমদ বলেন, মোটরসাইকেল ও সিএনজি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় গভীরতা বোঝা যায় না। সামান্য অসতর্কতায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী: মোট সড়ক ৫ হাজার ১১৪ কিমি, পাকা ২ হাজার ১৭২ কিমি,
কাঁচা ২ হাজার ৯৭৩ কিমি ক্ষতিগ্রস্ত পাকা সড়ক প্রায় ২০০ কিমি। বন্যা ও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এ অবস্থা।
বরাদ্দ সংকট:
গত বছর মেরামতে বরাদ্দ ছিল ৪৯ কোটি টাকা। তাতে মেরামত হয় ১১২ কিমি সড়ক ও ২৫ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট। চলতি বছর বরাদ্দ আরও কমে ৩২ কোটি টাকা। গত বছরের চলমান কাজের জন্য আছে আরও ২৭ কোটি। সব মিলিয়ে ৫৯ কোটি টাকা দিয়ে ৯০ কিমি সড়ক ও ৩৩ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
কী বলছে এলজিইডি:
মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমদ বলেন,প্রাথমিকভাবে কিছু সড়ক মেরামত করা হয়েছে। আরও কিছুর কাজ প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সব সড়কে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে: প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ, সিলেট বিভাগের উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় ১০ কোটি টাকা। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য ৫০ কোটি টাকার একটি বিশেষ স্কিম।তিনি আশা করছেন, প্রস্তাবিত অর্থ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার সম্ভব হবে।
নাগরিকদের দাবি:
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে যানবাহন ও জনগণের চলাচল নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের কথা, উন্নয়নের কথা বলার আগে গ্রামের রাস্তাটা ঠিক করুন।