মঙ্গলবার ১৫, সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার ১৫, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ইনোভেশন ফেয়ারের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবারের মেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৭৮টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয় এবং ১৫০টির বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে যবিপ্রবির পাঁচটি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়েছে।

মেলায় যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।

ইনোভেশন ফেয়ারে অংশ নেওয়া যবিপ্রবির গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক বড় একটি পাওয়া। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গবেষকের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা। আমরা আমাদের উদ্ভাবনগুলো নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। প্রতিনিধি দলও অনেক পরিশ্রম করেছে। আমরা এই কাজের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই এবং দেশের গবেষণায় বড় ভূমিকা রাখতে চাই।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশের ৭৮টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের উদ্ভাবনগুলো থেকে কঠোর বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা পাঁচটি প্রকল্পকে আমরা এই মেলায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছিলাম। মেলার স্টলে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলসহ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে চমৎকার আগ্রহ ও প্রশংসা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, যবিপ্রবি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে এই অর্জনকে কেবল মেলা বা গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না; সাধারণ মানুষের কল্যাণে এসব উদ্ভাবন ব্যবহার করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই ইনোভেশনগুলো খুব শিগগিরই দেশের সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারব।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, এই অর্জন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক গর্বের। আমি গবেষক দলকে অভিনন্দন জানাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। সবার সহযোগিতায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং আরও সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই।

যবিপ্রবির গবেষক দলের নেতৃত্বে থাকা এবং ন্যানো-ইউরিয়া উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে আমরা পাঁচটি উদ্ভাবন নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছিলাম। আমাদের প্রত্যেকটি ইনোভেশন বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিচারকদের নজর কেড়েছে। ইনোভেশন ফেয়ারের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে এই অর্জন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। এজন্য প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

যবিপ্রবির প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তি।

যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. কিশোর মজুমদার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাফিউল হাসান এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মেলায় অংশ নেন।

Link copied!