প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে।
অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর আগামী সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি উপস্থাপন করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়নি। উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
নবম পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে খসড়ায় সংশোধন বা কাটছাঁট করতে পারে। একই সঙ্গে পে-স্কেল কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন ধরা হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে।
এর আগে পে কমিশনের সুপারিশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।
নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার পর্যায়ে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ জটিলতা নিরসন এবং বিচার বিভাগের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের পর নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
