বৃহস্পতিবার ০১, অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০১, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

রাকসু জিএস আম্মারকে ২০২৫ সালে শিবির থেকে বহিষ্কারের দাবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

সংগৃহীত

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ‘সাথী’ পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে শিবিরের তিনটি চিঠি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে প্রতিবেদকের হাতে শিবিরের তিনটি চিঠি এসেছে বলে জানা যায়।

 

২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাবি শিবির সভাপতি ও রাকসুর সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনসহ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা শেষে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর ‘সাথী’ পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

 

একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং একাধিকবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও পরিবর্তন না আসায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয়েছে।

 

২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতেও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও সেপ্টেম্বরে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা পুনরায় উল্লেখ করা হয়।

 

ওই চিঠিতে নৈতিক স্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আম্মার অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর পদ বাতিল করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তবে চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

২০২৬ সালের চিঠিতে আরও বলা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং তাঁর অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

এ কারণে তাঁর অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য না করা এবং শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তাঁর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ রাখার অনুরোধ করা হয়। সংগঠনের সব পর্যায়ের জনশক্তিকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতেও বলা হয়।

 

রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আম্মারের শিবির-পরিচয় ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

এ বিষয়ে জানতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

 

চিঠির সত্যতা সম্পর্কে রাবি শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, “চিঠিটি সত্য এবং ২০২৫ সালেই তাকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়।”

 

২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আম্মার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। শিবির-সমর্থিত প্যানেল ২৩টি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পেলেও জিএস পদে আম্মার জয় পান।

 

এর আগে রাবি শিবির আম্মারের কর্মকাণ্ডের দায় নেবে না বলে জানিয়েছিল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়।

 

তবে আম্মারকে বহিষ্কারের বিষয়ে শিবিরের প্রকাশিত চিঠিগুলোতে থাকা অভিযোগ, সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান রাকসু জিএস হিসেবে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Link copied!