প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনি আয়োজিত কোডিং ফেস্ট ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে বাংলাদেশের একটি গবেষক দল। ‘Sikkhai’ শিরোনামের উদ্ভাবনী প্রকল্পের জন্য দলটি এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।
বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এর প্রতিনিধিত্বকারী দলটি আন্তর্জাতিক এই আসরে মোট চারটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে এবং চারটিই সম্মেলনে গৃহীত হয়। এর মধ্যে পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণাপত্র ‘Sikkhai’-এর লেখক ছিলেন এমডি. তাহসান ইসলাম, এমডি. তানজিম আলম তাসিন, সৌরভ চন্দ্র দাস এবং এমডি. আশরাফুজ্জামান। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন টেকনোলজি এবং ডিপার্টমেন্ট অব আইওটি অ্যান্ড রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। বাকি তিনটি গৃহীত গবেষণাপত্রও বিভিন্ন গবেষকের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোক্তার আলী এ সাফল্যের জন্য গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক একাডেমিক সম্পৃক্ততার ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষের প্রতিফলন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইওটি অ্যান্ড রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক সৌরভ চন্দ্র দাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলের চারটি গবেষণাপত্রই উপস্থাপন করেন, যা দলের বহুমাত্রিক গবেষণা সক্ষমতাকে তুলে ধরে।
কোডিং ফেস্ট ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), রোবোটিক্স এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী কাজ প্রদর্শন করেন।
দলের চারটি গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে ছিল— EEG সিগন্যাল ব্যবহার করে নিউরো-সিম্বলিক এআইভিত্তিক সহায়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্লকচেইন সমন্বিত নিরাপদ ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম এবং পরিবেশবান্ধব আইওটি-ভিত্তিক স্মার্ট কৃষি সমাধান। এসব প্রকল্প প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্যতারও প্রমাণ দিয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘Sikkhai’ প্রকল্পটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য, বুদ্ধিমান এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের পর সৌরভ চন্দ্র দাস বলেন, “এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং উন্নত গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের উদ্ভাবন ও গবেষণাকে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কোডিং ফেস্ট ২০২৬-এ এই সাফল্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় আরও বেশি অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
গবেষক দলটি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষার উৎকর্ষে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদানের জন্য শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং মাহবুব নাহিদ-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
