বৃহস্পতিবার ১৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন, কুড়িগ্রামে এক বছরে বিলীন ১৫০ বসতবাড়ি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চর থেকে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক বছরে ওই এলাকায় প্রায় ১৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। একই সময়ে কয়েক শ বিঘা ফসলি জমিও নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি কলেজ, একটি ভূমি অফিস, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে উত্তর নামাজের চর এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ভাঙনকবলিত এলাকার সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ডাঃ রাশিদুল ইসলাম, আবু সাইদ মাস্টার, শফিকুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী সহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোত ও ভাঙনে সাহেবের আলগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এবার উত্তর নামাজের চর থেকে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছরই তাঁদের নতুন করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকে জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এ ছাড়া ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ইউনিয়নের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চবিদ্যালয় ও দুটি কলেজ। একই সঙ্গে সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ, ফ্রেন্ডশিপের একটি কার্যালয় এবং আরডিআরএসের একটি স্কুলও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব স্থাপনার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী কয়েক শ বিঘা আবাদি জমিও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, গত এক বছরে নদীভাঙনে প্রায় ১৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে কয়েক শ বিঘা ফসলি জমিও নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো একদিকে বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, অন্যদিকে আবাদি জমি হারিয়ে জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভাঙন আরও তীব্র হলে বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে বক্তারা জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর, টেকসই ও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Link copied!