মঙ্গলবার ২৮, জুলাই ২০২৬

মঙ্গলবার ২৮, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

ছয় মাসেই বেহাল কুবির ওমেন্স কর্নার, ভোগান্তিতে ছাত্রীরা

কুবি থেকে আহসান হাবিব রাফি

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন্স কর্নার। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ছাত্রীদের বিশ্রাম, নামাজ আদায় ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য চালু করা ওমেন্স কর্নারটি প্রতিষ্ঠার ছয় মাস না পেরোতেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকির অভাবে কর্নারটির বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কর্নারের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছগুলো পানির অভাব ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার অভাবে শুকিয়ে গেছে। নামাজের স্থান এবং ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার না থাকায় সেখানে ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন ছাত্রীরা। বিশেষ করে ওয়াশরুমগুলোর বর্তমান অবস্থা সহজেই চোখে পড়ে। ফলে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু করা উদ্যোগটি ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা বলেন, “ওমেন্স কর্নার চালুর খবর শুনে খুবই খুশি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ক্লাসের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া ও নামাজ আদায়ের জন্য এটি স্বস্তিদায়ক একটি জায়গা হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, প্রয়োজনের তুলনায় জায়গা অনেক ছোট এবং ওয়াশরুমগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। এছাড়া পরিচর্যার অভাবে কর্নারের গাছগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে এটি ছাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক ও কার্যকর একটি স্থান হয়ে উঠতে পারে।”

বাংলা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা খানম বলেন, “ওমেন্স কর্নার চালুর সময় আমরা খুবই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই এটি অবহেলার শিকার হয়েছে। নিয়মিত তদারকি না থাকায় এখানকার পরিবেশও আগের মতো নেই।”

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মাহবুবা আফরিনও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের দিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে নতুন প্রকল্পগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে। আমাদের ওমেন্স কর্নারও তারই একটি উদাহরণ।”

এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “আমি অল্প কয়েকদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ওমেন্স কর্নারের বিষয়টি আমার নজরে আসে। কয়েক দিন আগে এস্টেট অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।”

Link copied!