নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
সোমবার ২৭, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ কুকুরের আক্রমণে দুই শিশু আহত হওয়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কুকুরের অস্বাভাবিক আচরণ ও উৎপাত বাড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন, প্রশান্তি পার্ক, কেন্দ্রীয় গ্যারেজ, সালাম হল সংলগ্ন রাস্তা ও একাডেমিক ভবন-৩ এর আশপাশসহ শিক্ষার্থীদের আড্ডার জায়গাগুলোতে কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মাঝে মাঝেই এসব কুকুর আবাসিক হলে প্রবেশ করে মলমূত্র ত্যাগ করছে, এমনকি শিক্ষার্থীদের খাওয়ার পানির টেপে মুখ দিয়ে পানি খেতেও দেখা যাচ্ছে।
ক্যাম্পাসজুড়ে অসংখ্য কুকুরের বিচরণ রয়েছে। এর পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও নতুন নতুন কুকুরের দল এসে ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিচ্ছে। সাধারণত দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুর সকালে বা রাতে হাঁটতে বের হওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে পড়লে তেড়ে আসে, যা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “কুকুরের কারণে ক্যাম্পাসে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে। হল ও রাস্তাঘাটে এরা দল বেঁধে বসে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করে। বিশেষ করে ছেলেদের হলগুলোতে কুকুরের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে কুকুর অপসারণ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী অর্পিতা পোদ্দার বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইদানীং পথকুকুরের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা ও ভয় তৈরি হচ্ছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই সমস্যার সমাধান যেন মানবিক উপায়ে করা হয়। কুকুরগুলোও জীব, তাই তাদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ নয়; বরং টিকাদান, জন্মনিয়ন্ত্রণ (স্পে/নিউটার), প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর জন্য নির্দিষ্ট স্থানে খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে প্রশাসনের উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় একটি কার্যকর ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং প্রাণীদের প্রতিও মানবিক দায়িত্ব পালন করা হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “কুকুরের কামড়ে দুই শিশু আহত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কুকুরের ভ্যাকসিনেশনের জন্য এরই মধ্যে নোয়াখালী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”