প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আজ ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি. এই তথ্য জানানো হয়।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বর্তমানে চুয়েট এর পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশপাশি, বিভিন্ন প্রশাসনিক, একাডেমিকসহ বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রকৌশলীদের আর্ন্তজাতিক ও দেশীয় সংস্থা/সংগঠনের ফেলো ও সদস্য।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েট এর বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম ১৯৮০ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার নাইখাইন গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রত্নগর্ভা পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা মরহুম হাজী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক উপ-কর কর্মকর্তা ছিলেন। রত্নগর্ভা মায়ের নাম হাজী চেমন আরা বেগম।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০০৫ সালে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে চুয়েটে শিক্ষক হিসেবে সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি STEM and innovation, Clean and sustainable energy, De-Carbonization, Green Hydrogen production and storage, Renewable energy, Energy conversion system, Waste to energy, Biofuel and biodiesel and climate change প্রভৃতি বিষয়ে একজন দক্ষ গবেষক ও শিক্ষক। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জার্নালে তাঁর একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে আসছে। তাঁর অনেক গবেষণা আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে সমাদৃত। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম এর সহায়তায় বিদেশে পড়ালেখা, চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার সিকিউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পিএইচডি শেষে অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা মাইনিং কোম্পানি এমিরান্ডে মেকানিক্যাল ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ভিনদেশের বিলাসী জীবন ছেড়ে তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন। অধ্যাপক সায়েম বলেন, ‘বিদেশে থেকে হয়তো নিজের জন্য অনেক কিছু অর্জন করা যেত। কিন্তু আমার অর্জন যদি শিক্ষার্থীদের কাজে না লাগে, যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে প্রকৌশলীর পরিচয় দিয়েছে, তার জন্য যদি কিছু করতে না পারি, তাহলে এসবের মূল্য কী? তাই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি, বিশ্বমঞ্চে চুয়েটের নাম ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। ভিসি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিয়ে চুয়েটকে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য আমি চুয়েট পরিবারের সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশী।’
