প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে দ্বিতীয় দফায় ১৯ দিনের ব্যবধানে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি দান হিসেবে মিলেছে সোনা, রূপা, ১২টি দেশের বিদেশি মুদ্রা এবং ৬৫টি ছাগল।
শনিবার (১১ জুলাই) দিনব্যাপী গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণনার ফলাফল ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ১টার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মাজারের ডেগ ও নতুন দানবাক্স থেকে চার বস্তা টাকা বের করে গণনার কাজ শুরু হয়। শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ গণনা কার্যক্রমে অংশ নেন।
গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসিয়াল হিসাব অনুযায়ী, নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত বিদেশি মুদ্রার তালিকা:
সৌদি আরব: ১৩৫ রিয়াল
ভারত: ২ হাজার ৫৩২ রুপি
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই): ৫৪.২০ দিরহাম
ওমান: ১ দিনার ৪৫০ পয়সা
ইন্দোনেশিয়া: ৪ হাজার রুপিয়া
যুক্তরাষ্ট্র: ২০ ডলার
হংকং: ২০ ডলার
ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০ ইউরো
সিঙ্গাপুর: ১০ ডলার
কাতার: ২২ রিয়াল
মালয়েশিয়া: ৬ রিঙ্গিত
পাকিস্তান: ৬০ রুপি
নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯.৪ গ্রাম রূপাও উদ্ধার করা হয়েছে।
সর্বশেষ গণনার পর থেকে পাওয়া গবাদি পশুর হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ভক্তদের দান করা একটি গরু লঙ্গরখানায় রান্না করে মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৬৫টি ছাগল পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা আয় হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় মাত্র চার দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। প্রথম দফার মতো এবারও ১০ ও ৫০ টাকার নোটের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
টাকা গণনার সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
