প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন এবং খেলার মাঠ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপজেলার আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিশাল খেলার মাঠ পুরোপুরি পানিতে নিমজ্জিত। মাঠের পানি উপচে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের মুসল্লিদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পরীক্ষা স্থগিতের কারণে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচলের বাধ্যবাধকতায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। মশার উপদ্রব বাড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও অনেক এলাকায় পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এখনো পানি আটকে রয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার ও পোশাকশ্রমিকরা।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক হামিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"পরীক্ষার কারণে সকালে সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তা ও স্কুলজুড়ে পানি থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। প্রতিটি মোড়ে যানজট আর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বাচ্চাদের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।"
কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষার প্রস্তুতির মানসিক চাপের মধ্যে এই প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ভিজে কাপড়ে কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় মনোযোগ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতেও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ জানান, "টানা বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক কক্ষ ও মাঠে পানি জমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ পুরোপুরি বিঘ্নিত হচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমাদের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য।"
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
