বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে কারারক্ষীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের হাজতী ও কয়েদি ব্রাঞ্চের ইনচার্জ কারারক্ষী শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, কারা বিধি লঙ্ঘন, অবৈধ অর্থ আদায় এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক মামলার কিছু বন্দিকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে। এছাড়া কারা বিধি উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও একাধিক অননুমোদিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে বিত্তশালী ও রাজনৈতিক মামলার বন্দিদের কারাগারের ভেতর থেকে বাইরের ব্যক্তিদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জেল সুপার ও জেলার কার্যালয় ত্যাগ করার পর ব্রাঞ্চ অফিসের জানালা দিয়ে বন্দিদের ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, যা কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এছাড়া, হাজতি ও কয়েদিদের জামিন বা মুক্তির সময় পুনরায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যারা অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় এবং মুক্তির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করা হয়। এমনকি উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ পৌঁছানোর পরও অর্থ না পাওয়া পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত ব্রাঞ্চ অফিসে আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের প্রাপ্য পিসি ও জমাকৃত অর্থ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয় না। ডেপুটি জেলার পদ শূন্য থাকার সুযোগে তিনি ডেপুটি জেলারের দায়িত্বের মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং পারভেজ শামস পরশ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে বদলি বা অন্যত্র চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছুদিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি বিষাক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মে ব্যবহৃত রাসায়নিক পান করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন। এরপরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রাখায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারারক্ষী শাহিন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের কারা সুপার মোঃ তারিকুল ইসলামবলেন, "এ বিষয়ে জানতে হলে সরাসরি কারাগারে আসেন।"

কারা বিভাগের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Link copied!