সোমবার ২৯, জুন ২০২৬

সোমবার ২৯, জুন ২০২৬ -- : -- --

সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক, বিজিবি-জনতার প্রতিরোধে টিকতে পারছে না বিএসএফ

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর অভিযোগে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বোবারথল সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে প্রতিটি ঘটনাতেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার, শনিবার ও রোববার সীমান্ত পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত ছিল। বড়লেখার বোবারথল সীমান্তের ১৩৪৭ থেকে ১৩৫১ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএসএফ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বিজিবির ৫২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ ১০ থেকে ১৫ জনের ছোট ছোট দলে রোহিঙ্গা ও অবৈধ ভারতফেরত বাংলাদেশিদের কাঁটাতারের দিকে এগিয়ে দেয়। তবে বিজিবির পাশাপাশি বোবারথল, দক্ষিণভাগ ও শাহবাজপুর গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে অবস্থান নিলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাতের আঁধারে পুশইনের চেষ্টা এবং বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বোবারথলসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

বোবারথল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, "প্রতি রাতে ঘুমাতে পারি না। গুলির আওয়াজ আর মানুষের চিৎকার শুনি। বাচ্চারা ভয়ে কাঁদে। বিএসএফ কেন আমাদের দেশে লোক ঢোকাতে চায় বুঝি না।"

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা সায়েদা বেগম বলেন, "সীমান্তে আতঙ্কের মধ্যে আছি। কখন জানি আবার গুলি চলে আসে। সরকারের কাছে বিচার চাই।"

এ বিষয়ে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, "বড়লেখা সীমান্তে অবৈধ পুশইন ঠেকাতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুক্র ও শনিবার বিএসএফের কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দিইনি। বাংলাদেশের মাটিতে একজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকেও ঢুকতে দেওয়া হবে না।"

তিনি আরও জানান, "এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।"

বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান বলেন, "শুধু সীমান্তে প্রতিরোধ করলেই হবে না। কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের অমানবিক পুশইন বন্ধ করতে হবে। সীমান্তবাসী আতঙ্কে আছে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা ও অবৈধ বাংলাদেশি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সীমান্তে পুশইনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি এবং সীমান্তবর্তী জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

Link copied!