পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাস্কর চন্দ্র রায়
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
সোমবার ২৯, জুন ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ১৩টি দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইমার্জিং ফ্রন্টিয়ার্স ইন অ্যাডভান্সড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস-২০২৬ (ইফাস্ট-২০২৬)’ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের।
পাবিপ্রবির বিজ্ঞান অনুষদ, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পারলিস (UniMAP)-এর সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর অ্যাডভান্সড কম্পিউটিংয়ের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, নাইজেরিয়া, জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল ও ভারতের গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।
দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে ৩৯টি টেকনিক্যাল সেশনে মোট ৩৭৬টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়। এর মধ্যে ২২৮টি গবেষণাপত্র সরাসরি, ৭৮টি অনলাইনে এবং ৬৯টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে উন্নত পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাম্প্রতিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির জেফরি স্যাকস সেন্টার অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান ড. চেন জিট আর্ন। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাকির আলী এবং জাপানের ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. নারুহিকো আইজাওয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল আলম, সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক এবং সদস্যসচিব ড. মো. শামীম রেজাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।
সম্মেলনে ভার্চুয়ালি কীনোট স্পিকার হিসেবে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ও সার্নের (CERN) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. জন এলিস, যুক্তরাষ্ট্রের বল স্টেট ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম. রাহমাতুল্লাহ ইমন, জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা)-এর অধ্যাপক ড. কেই ওইয়োশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মার্সার ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান।
ভার্চুয়ালি আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ারের গ্রুপ লিডার ড. লিয়াং লি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই অ্যাট মানোয়ার অধ্যাপক ড. সারা উইডিয়াসিহ পোস্ট এবং জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আই সুগি।
দেশীয় শিক্ষাবিদদের মধ্যে কীনোট স্পিকার হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদ। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, "বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ধার করে কোনো জাতি দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যেতে পারে না। টেকসই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন নিজস্ব উদ্ভাবন, মৌলিক গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তি সৃষ্টির সাহস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উদ্ভাবনী চিন্তা, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল এবং জ্ঞানভিত্তিক গবেষণার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আইসিএআর (ICAR)-এর মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলন শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকদের বিশ্বমানের গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করে। এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজন করতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। শেষে তিনি সম্মেলন সফল করতে সকল অংশগ্রহণকারী, বক্তা, আয়োজক, পৃষ্ঠপোষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের শুভকামনা জানান।"
অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ড. খায়রুল আলম বলেন,"আমাদের আন্তর্জাতিক অতিথিবৃন্দ, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক (Keynote Speakers) এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের প্রতি গভীর অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। তাঁদের যুগান্তকারী গবেষণা ও মূল্যবান অভিজ্ঞতা এই সম্মেলনকে সমৃদ্ধ করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক, প্রবন্ধ লেখক ও রিভিউয়ারদেরও ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে সেশন চেয়ার, কো-চেয়ার, প্রতিনিধি, গবেষণাপত্র উপস্থাপক এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রাণবন্ত আলোচনা এই সম্মেলনকে সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। আমরা আমাদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের উদার সহায়তা ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজন সম্ভব হতো না।
বিশেষ ধন্যবাদ জানাই এই আয়োজনের স্বপ্নদ্রষ্টা আমাদের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল স্যার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং আহ্বায়ক, আয়োজক সচিব এবং বিভিন্ন উপ-কমিটির সদস্যদের। তাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও নিষ্ঠাই ই-ফাস্ট ২০২৬-এর সাফল্যের মূল ভিত্তি।
আমি আপনাদের সকলের নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার শুভকামনা জানাই। আশা করি, ই-ফাস্ট ২০২৬ আপনাদের সবার জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।"