প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজে বের করতে সরকারি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দেশটির ফুটবল প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে হং মিয়ং-বোকে নিয়োগের প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, কোচ নির্বাচনে যোগ্যতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
শনিবার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার। গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকলেও সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয় দলটি।
হং মিয়ং-বোর নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া তিন ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয় পেলেও সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজিত হয় তারা। গ্রুপে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ভর হয়ে পড়ে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জনগণের করের অর্থ থেকে বড় ধরনের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
তিনি জনগণের হতাশার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এক্সে দেওয়া পোস্টে লি লেখেন, 'শুধু এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলে আমি শুধু বিস্মিত নই—সম্পূর্ণ হতবাক।'
তিনি আরও লেখেন, 'বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জনগণের করের বিপুল অর্থ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা ব্যয় করা হয়। তাই আমি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত, কারণ বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ ও উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।'
তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সে জন্য আমরা দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করব।'
এশিয়ার অন্যতম পরিচিত ফুটবলার হং মিয়ং-বো ২০১৩ সালের পর ২০২৪ সালে আবারও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। তার অধীনে বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় দলটি।
তবে তার নিয়োগ নিয়েও আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ ছিল, কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়াটিও যথেষ্ট স্বচ্ছ ছিল না।
যদিও কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রেসিডেন্ট লির মতে, ক্রীড়া নেতৃত্ব নির্বাচনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তার অভিযোগ, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'জনস্বার্থ ও ব্যক্তিস্বার্থের' মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করা হয়নি।
বিশ্বকাপের আগে বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও মূল আসরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
