প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
জাতীয় দলের ক্রিকেটার Nayeem Hasanকে হেনস্তার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার Hasan Md. Shawkat Aliর কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) Md. Alamgir Hossain প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্তের বিস্তারিত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
পরে পুলিশ কমিশনার জানান, তদন্তে খুলশী থানার তিন সদস্যের বিরুদ্ধে নাঈম হাসানকে হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব পালনে অপেশাদার আচরণ করেছেন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। ঘটনার পর তাঁদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল।
সাত দফা সুপারিশ তদন্ত প্রতিবেদনে
শাস্তির সুপারিশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সাত দফা কৌশলগত সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।
এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ও মানবিক প্রশিক্ষণ জোরদার করা, নিয়মিত ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা, দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব বাড়াতে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে নাঈম হাসানের গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে ওই তথ্যের উৎস সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উঠে এসেছে কি না, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি হননি পুলিশ কমিশনার।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
গত ১২ জুন রাতে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় তাঁর গাড়ি থামায় পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নেওয়া হয়। পরে খুলশী থানার উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন।
একপর্যায়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় করে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।
পরে Bangladesh Cricket Board (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে মুক্তি পান নাঈম।
ঘটনার পরদিন পুলিশ কমিশনার নাঈমের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তদন্তে অতিরিক্ত সময় নেওয়া হয়।
