সোমবার ২৯, জুন ২০২৬

সোমবার ২৯, জুন ২০২৬ -- : -- --

খেলা দেখতে এসে ঢাবিতে নারী হেনস্তার অভিযোগ

ঢাবি থেকে আরিফ জাওয়াদ

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে এসে সাবেক শিক্ষার্থীসহ এক নারীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দলবেঁধে মাঠে বসে খেলা দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল নারী শিক্ষার্থী। এছাড়া ওই শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। 

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে এসে ওই স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা দাবিগুলো হলো- নারী হেনস্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ক্যাম্পাসে নারী হয়রানি, অনলাইন হেনস্তা, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও আবাসিক পরিসরে এমন কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না, যা নারীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে বা তাদের চলাচল ও অংশগ্রহণকে অযৌক্তিকভাবে সীমাবদ্ধ করে।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর নারীবান্ধব নেই। নারীদের বিচরণ ও চলাফেরাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য এবং তাদের অংশগ্রহণ সংকুচিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন পাঁয়তারা চলছে। প্রক্টর স্যার আমাদের কাছে কিছু সময় চেয়েছেন এবং বলেছেন তিনি বিষয়টি দেখবেন। আমরাও বলেছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

এর আগে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ওই নারী শিক্ষার্থীরা সকালে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে এসে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ দেখেন।এ সময় সকল নারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায় হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ১৯টি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ১৪টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫টি হল। মূলত শহীদুল্লাহ হলটি পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ। 

জানা গেছে, গত ২৬ জুন ‘নরওয়ে বনাম ফ্রান্স’ ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২০১৭-১৮ সেশনের মার্কেটিং বিভাগের শাওন-নুসরাত দম্পতিসহ ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন সাবেক শিক্ষার্থী হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই সাবেক শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেন। 

যদিও নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাজু মিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী। এছাড়া তিনি শাখা শিবিরের কোন পদে না থাকলেও তিনি সমর্থক। তার ভাষ্য, তিনি কোন নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করেননি। তাছাড়া যারা হেনস্তার অভিযোগ তুলছে, তাদের তিনি ভদ্রভাবে যেতে বলেছেন, বরং তারাই উল্টো চোটপাট দেখিয়েছে বলে, দাবি সাজুর।

এদিকে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব হল প্রশাসনের।’

এ ঘটনায় গত শনিবার হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হল শাখা ছাত্রদল। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। রবিবার নারী হেনস্তা এবং নারীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রতিবাদ জানিয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদ। এছাড়া দুপুরে পাঁচ দফা দাবিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রী। 

স্মারকলিপিতে থাকা দাবিগুলো হলো- ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত; হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যথাযথ প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ; বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মব সংস্কৃতি, মোরাল পুলিশিং এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর; নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী সকলের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও বৈষম্যহীন অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একজন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

Link copied!