প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল ২০২৬ আজ শনিবার (২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রি.) সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে| বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার| বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিডিরেন-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ তাওরিত| সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ|
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একশোর বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত এক হাজার দুইশোর বেশি প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে একটি বৃহৎ প্রযুক্তি উৎসবে পরিণত করেছে| এই দুই দিনে আমরা প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য সমš^য় প্রত্যক্ষ করেছি, যা জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের অসাধারণ নৈপুণ্যের অনন্য উদাহরণ| আমাদের সিএসই বিভাগ শুধু শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যবহারিক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, উদ্ভাবক ও দায়িত্বশীল গবেষক তৈরীতে নিরলসভাবে কাজ করছে| এ কার্নিভালের প্রতিটি প্রজেক্ট, প্রতিটি আইডিয়া, প্রতিটি উপস্থাপনা আমাদের শিক্ষার্থীদের অসীম সম্ভাবনা এবং নিবেদিত পরিশ্রমের প্রতিফলন|”
উপাচার্য আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান এবং দক্ষতা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং সমাজ ও মানবতার কল্যাণে এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে| আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে সকলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি প্রতিশ্রুতি পালন|” উপাচার্য সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিযোগী, শিক্ষক, গবেষক, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্নিভাল সফল করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান|
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য বলেন, “আমরা দুই দিনব্যাপী যে অসাধারণ কার্নিভাল আয়োজন করতে পেরেছি তা ডুয়েটের গর্বের বিষয়| এ দুদিনে কার্নিভালে উত্থাপিত সৃজনশীল ধারণাগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও পরিশ্রমের প্রমাণ| সফল এ আয়োজন থেকে এটি প্রতীয়মান যে, কম্পিউটার সায়েন্স শুধুমাত্র কোডিং নয়— এটি সমস্যা সমাধানের শিল্প, উদ্ভাবনের জগত এবং ভবিষ্যতের নির্মাণ| আপনারা যারা এখানে আছেন, আপনারা আগামীর স্থপতি| আপনারা আপনাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখুন| প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করুন, প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিখুন এবং আপনার ¯^প্ন অনুসরণ করুন|”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, “বিজ্ঞান হলো চোখ, আর প্রযুক্তি হলো হাতের মতো, যা সমস্যার সমাধান করে| এই কার্নিভালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা কৃষি, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবন করছে, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে|” তিনি সকলকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান|
সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস, ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর ডুয়েট চ্যাপ্টারের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু ˆতয়ব| এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন প্রতিযোগিতার বিচারক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কাশেম, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান ও অধ্যাপক ড. ফজলুল হাসান সিদ্দিকী এবং অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে ফাওজিয়া রহিম| এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন|
ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি এবং হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের একশোর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার দুইশোর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়| কার্নিভালের প্রথম দিনে গতকাল আইসিটি অলিম্পিয়াড ও প্রজেক্ট শোকেসিং এবং আজ সমাপনী দিনে ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি), এআই হ্যাকাথন কম্পিটিশন-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তুলে ধরে| প্রতিযোগিতা শেষে নেটওয়ার্কিং সেশন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামে আজ|
