মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
বৃহস্পতিবার ২৫, জুন ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে অবদানের ভিত্তিতে প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং ২০২৬-এ স্থান অর্জন করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। আন্তর্জাতিক এই মূল্যায়নে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বব্যাপী ৬০১-৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান করেছে, যা দেশের প্রকৌশলভিত্তিক উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষাবিষয়ক যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রতিবছর বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিতে এ র্যাংকিং প্রকাশ করে। জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব অবদান মূল্যায়নের মাধ্যমে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
এবারের র্যাংকিংয়ে বিশ্বের ১১৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৬৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়নের ভিত্তিতে রুয়েট সার্বিকভাবে ৬০ দশমিক ৭ থেকে ৬৬ দশমিক ১ স্কোর অর্জন করেছে।
র্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সূচকের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব (এসডিজি-১৭) সূচকে রুয়েটের স্কোর ৪৭ দশমিক ৫ থেকে ৫৩ দশমিক ৬। এছাড়া মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি-৪) সূচকে ৬৮ দশমিক ৫ থেকে ৭৪, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন (এসডিজি-৬) সূচকে ৫৮ দশমিক ৭ থেকে ৬৭ দশমিক ২ এবং সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি (এসডিজি-৭) সূচকে ৫৫ দশমিক ৪ থেকে ৫৯ দশমিক ৮ স্কোর অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ অর্জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আরও উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করবে।
এবারের টিএইচই ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং ২০২৬-এ বাংলাদেশের মোট ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এবারের তালিকায় স্থান পেয়েছে শুধু রুয়েট ও এমআইএসটি। তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এ র্যাংকিংয়ে স্থান পায়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, টেকসই নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে রুয়েটের এ অর্জন দেশের প্রকৌশল শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।