সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

‘প্রবাসী পাত্র মানেই সুখ’ -এক বছরে বিশ হাজার বিয়ের বিপরীতে তালাক আড়াই হাজার !

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

ফাইল ছবি

লাল পাসপোর্টের মোহ আর প্রবাসী পাত্রের মিথ্যা আশ্বাস, এই দুই ফাঁদেই এখন ভেঙে চুরমার হচ্ছে সিলেটের শত শত সংসার। যুগের পর যুগ ধরে প্রবাসে থিতু হওয়া মানেই ভাগ্য বদল - এই ধারণাই আজ রূপ নিচ্ছে সামাজিক ট্র্যাজেডিতে।

বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন, অর্থনৈতিক প্রতারণা আর মানসিক অশান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে বিচ্ছেদকেই মুক্তির পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক নারী-পুরুষ।

জেলা রেজিস্টার কার্যালয় তথ্যমতে, গত এক বছরে সিলেটে বিবাহ নিবন্ধন ২০,৪৮৫টি, অথচ একই সময়ে তালাক নিবন্ধন ২,৫৩২টি।

সিলেট সিটি করপোরেশন সালিশ বোর্ড তথ্য -২০২৪ সাল : মোট আবেদন ৩১৩টি,  স্বামী ১৪২টি , স্ত্রী ১৭১টি, ২০২৫ সাল: মোট আবেদন ৫৪৫টি,  স্বামী ২৫২টি,  স্ত্রী ২৯৩টি , এক বছরে বৃদ্ধি ৭৪%। ২০২৬ সাল (প্রথম ৬ মাস)  আবেদনই ২৬৪টি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো আবেদনকারীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট বিভাগে বেশি ভাগ পরিবার। পাত্র প্রবাসী শুনলেই আর কিছু দেখে না তারা , কন্যার মতামত ছাড়াই বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার।  তাই এই সব কারন থেকে দ্রুত সময়ে মাঝে বেশি ভাগ তালাক হয়।

সিলেটের কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল খান বলেন,  মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার মতামত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা সেটা করছি না। আমরা অনেক সময় লোভে পরে ছেলে মেয়ে কে বিয়ে দেয়। আমাদের  লোভ আর ভুল চিন্তা ছেলে মেয়ের ক্ষতি  নিজেরা করে থাকি। 

শাবি'র সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াকাস জানান, বিদেশের কঠিন বাস্তবতার সাথে নতুন দম্পতিরা খাপ খাওয়াতে পারে না। স্বপ্ন আর বাস্তবতার ফারাকেই ফাটল ধরে।

এপিপি অ্যাডভোকেট আয়েশা বেগম শেলী বলেন, প্রবাসীরা বিয়ে করে ১৫ দিন থেকে চলে যায়। এরপর স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে গৃহপরিচারিকার মতো খাটে, ১-২ বছর এভাবে থেকে বাধ্য হয়ে তালাক দেয়। পরে স্বামী এসে তাকেও রাখতে চায় না।

যুক্তরাজ্য সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার তাজ উদ্দিন শাহ বলেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ২য়/৩য় প্রজন্মের লাইফস্টাইল একদম আলাদা। পারিবারিক চাপে দেশে বিয়ে করলেও ৬ মাসেই ডিভোর্স। চিন্তা-চেতনায় মিল নেই।

প্রবাসের প্রতি অন্ধ মোহ আর তাড়াহুড়ো করে বিয়ে বন্ধ না হলে সিলেটের পারিবারিক কাঠামো আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। তাদের মতে, বিয়ের ক্ষেত্রে প্রবাসী ট্যাগের চেয়ে ৩টি জিনিসকে প্রাধান্য দিতে হবে, ব্যক্তির চরিত্র, কন্যা/পাত্রের মতামত, মানসিকভাবে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

Link copied!